কামরুল হাসান, কোটালীপাড়া : গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় ৩০ নং উত্তর বান্ধাবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পীযুষ কান্তি রায়ের বিরুদ্ধে ম্যানেজিং কমিটি গঠনে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এঘটনায় ২৭ সেপ্টেম্বর গাজী মোঃ জাকারিয়া বাদী হয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগ সুত্রে জানাগেছে ৩০ নং উত্তর বান্ধাবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ম্যানেজিং কমিটি গঠনে সকলের সর্বসম্মতিক্রমে গাজী মোঃ জাকারিয়াকে বিদ্যুৎসাহী সদস্য নির্বাচিত করা হয়। কিন্তু প্রধান শিক্ষক অনিয়ম করে দুর্নীতির মাধ্যমে গাজী মোঃ জাকারিয়ার নাম বাদ দিয়ে অনুমোদের জন্য মোঃ বাচ্চু খন্দকারের নাম প্রেরন করেন।যাহা সম্পুর্ণ অন্যায় এবং অবৈধ ভাবে করা হয়েছে।এছাড়াও প্রধান শিক্ষক পীযুষ কান্তি রায়ের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের বিভিন্ন খাতে সরকারি ভাবে বরাদ্দকৃত টাকা আত্মসাতের অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি জানানো হয়েছে।
মঙ্গলবার সরেজমিনে গেলে প্রধান শিক্ষকের এমন কর্মকান্ডে ক্ষুব্ধ হয়ে মোঃ বাচ্চু খন্দকারের নাম বাদ দিয়ে গাজী মোঃ জাকারিয়া খন্দকারের নাম অন্তর্ভুক্ত করে পুর্ণাঙ্গ কমিটি প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন এবং প্রধান শিক্ষক পীযুষ কান্তি রায়ের বিরুদ্ধে অনিয়ম দুর্নীতি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী করেন।
ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি খন্দকার মোঃ আবু হানিফ বলেন, চলতি বছরের ২২ জুন ৩০ নং উত্তর বান্ধাবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি গঠনের জন্য বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে বিদ্যালয়ে অধ্যায়ণরত সকল অভিভাবক স্হানীয় গন্যমান্য ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে কমিটি গঠনের সকল প্রক্রিয়া অনুসরণ করে আমাকে সভাপতি ও গাজী মোঃ জাকারিয়া খন্দকারকে বিদ্যুৎসাহী সদস্য হিসেবে নাম প্রস্তাব করে নির্বাচিত করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে জানতে পেলাম যে বিদ্যুৎসাহী সদস্য গাজী মোঃ জাকারিয়ার নাম নেই তার পরিবর্তে মোঃ বাচ্চু খন্দকারের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক প্রধান শিক্ষকের এমন কাজটি করা ঠিক হয়নি বিষয়টি তদন্ত করে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা একান্ত প্রয়োজন।
কমিটির সহ সভাপতি শাহাআলম খন্দকার বলেন, এলাকার গন্যমান্য সকলের সর্বসম্মতিক্রমে বিদ্যুৎসাহী সদস্য হিসেবে একমাত্র গাজী মোঃ জাকারিয়ার নাম প্রস্তাব করে কমিটি গঠন করা হয় কিন্তু পরবর্তীতে প্রধান শিক্ষক অন্যায় ভাবে তার নাম বাদ দিয়ে মোঃ বাচ্চু খন্দকারের নাম অন্তর্ভুক্ত করেছে।
কমিটির আরেক সদস্য ইউপি সদস্য মাসুম শেখ বলেন, অভিভাবক এবং আমাদের ওয়ার্ডের সমস্ত সচেতন লোকের উপস্থিতিতে বিদ্যুৎসাহী সদস্য হিসাবে গাজী মোঃ জাকারিয়ার নাম প্রস্তাব করা হয়। কিন্তু প্রধান শিক্ষক আমাদের কাউকে না জানিয়ে তার নাম বাদ দিয়ে বাচ্চু খন্দকারের নাম অন্তর্ভুক্ত করে চরম অন্যায় করেছেন বিষয়টি তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
ওই ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি বাচ্চু খন্দকার বলেন, প্রধান শিক্ষক পীযুষ কান্তি রায়ের বিরুদ্ধে দুর্ণিতী ও অনিয়মের একাধিক অভিযোগ রয়েছে এর মধ্যে নতুন করে বিদ্যুৎসাহী সদস্য গাজী মোঃ জাকারিয়ার নাম বাদ দিয়ে আরেকটি সমালোচনার জন্ম দিয়েছেন।
ওই বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী খন্দকার মোঃ তামিম বলেন, প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। কমিটি গঠনে আমরা সকলে মিলে সভাপতি এবং বিদ্যুৎসাহী সদস্যের নাম চূড়ান্তভাবে প্রস্তাব করে দিয়েছি। কিন্তু প্রধান শিক্ষক অনিয়ম করে তার নাম বাদ দিয়ে মোঃ বাচ্চু খন্দকারের নাম অন্তর্ভুক্ত করেছে।
এছাড়াও খন্দকার আলী হোসেন ও আজমল খন্দকার সহ আরো অনেকে বলেন কমিটি গঠনের সময় ছাত্র-ছাত্রীদের অভিভাবক এলাকার গন্যমান্য ব্যাক্তি বিশিষ্ট মুরুব্বি সহ প্রায় দেড় শতাধিক লোক উপস্থিত ছিলেন।সেখানে সবার অনুমতিতে গাজী মোঃ জাকারিয়ার নাম প্রস্তাব করে কমিটি গঠন করা হয়েছে। কিন্তু প্রধান শিক্ষক তার নাম বাদ দিয়ে চরম অন্যায় করেছে আমরা তার শাস্তির দাবি জানাই।
এবিষয়ে মোঃ বাচ্চু খন্দকার বলেন আমি প্রথমেই বলেছি যে আমি আর বিদ্যালয়ের কমিটিতে থাকতে পারবো না।আমি জানতে পেরেছি আমাদের এলাকার সবাই মিলে গাজী মোঃ জাকারিয়াকে বিদ্যুৎসাহী সদস্য করে কমিটি গঠন করেছে কিন্তু প্রধান শিক্ষক আমাকে না জানিয়ে অন্যায় ভাবে আমার নাম অন্তর্ভুক্ত করেছে।আমি বারন করায় তিনি বলেন সবকিছু আমি দেখবো।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার শেখর রঞ্জন ভক্ত বলেন-প্রধান শিক্ষক তিনটি নাম প্রস্তাব করেছে এর মধ্যে এক নাম্বার নামটি অনুমোদন হয়েছে। অভিযোগের বিষয় জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক পীযুষ কান্তি রায়ের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন বিষয়টি নিয়ে যখন অভিযোগ হয়েছে। আমি ছুটিতে আছি এখন কিছু বলবোনা।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাইফ উল আরেফীন বলেন বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
Leave a Reply