ডেস্ক রিপোর্ট : রাজধানীর গুলশানে সরকার বিরোধী মিছিলের ঘটনায় সন্ত্রাস বিরোধী আইনের মামলায় গ্রেফতার কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ২৪ নেতাকর্মীর ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ ফারজানা হক শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
আসামিরা হলেন- মো. রহিম, মো. জাহাঙ্গীর হোসেন, মো. আলমগীর হোসেন, সাব্বির হোসেন, কামরুল হাসান, মো. মুন্না মিয়া, সামিন ইয়াসার (সাফায়াত), মো. রাসেল, এইচ এম জাকারিয়া রহমান, মিনহাজুল ইসলাম ফাহাদ, সোহেল আহমেদ, মো. সোহরাব, মো. হযরত আলী, মো. আক্তারুল ইসলাম মাসুদ, চাঁন মিয়া, মো. হাবিব সিকদার, মো. জহির হোসেন, মেহেদী হাসান, কবির ভান্ডারী, বাবুল গোপ, মো. ফরিদ আহমেদ, ইন্দ্রনীল দেব শর্মা, মো. নজরুল ইসলাম ও মাসুদ হাসান শামীম।
এদিন গ্রেফতার ২৫ আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। এরপর পাঁচ কারণে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও গুলশান থানার উপপরিদর্শক রুহুল আমিন তাদের ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। শুনানিতে তিনি জানান, মামলার সুষ্ঠু তদন্ত এবং মূল রহস্য উদঘাটন করা প্রয়োজন। এ ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী সনাক্ত ও গ্রেফতার, ষড়যন্ত্রকারী ও অর্থের যোগানদাতা সম্পর্কে তথ্য জানতে রিমান্ডে নেয়া প্রয়োজন। এছাড়া জড়িত অপরাপর আসামিদের অবস্থান সম্পর্কে তথ্য এবং পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে ১০ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।
এ সময় আসামিপক্ষে আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল ও জামিন চেয়ে আবেদন করেন। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে জামিনের বিরোধিতা করেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত ২৪ আসামির ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। তবে আরাফাত নামে একজনকে শিশু হিসেবে দাবি করায় রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) কাগজপত্র দাখিল ও অধিকতর শুনানির জন্য দিন ধার্য করা হয়েছে। একইসঙ্গে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, রাজধানীর গুলশান থানাধীন এলাকায় শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বেলা পৌনে ১২টায় নির্বাচিত সরকারের ভাবমূর্তি নস্যাৎ করা সহ সরকার বিরোধী এজেন্ডা বাস্তবায়ন ও সরকারকে বেকায়দায় ফেলার লক্ষ্যে কার্যক্রম স্থগিত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতারা এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা সমবেত হন। তারা সরকার ও রাষ্ট্রবিরোধী স্লোগান প্রদান ও বিশৃঙ্খলা করার লক্ষ্যে সমাবেশের আয়োজন করেন। এ সময় তারা ঘটনাস্থল ও আশপাশ এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করেন।
অজ্ঞাতনামা আসামিরা নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের সদস্য হয়ে নিষিদ্ধ সত্ত্বাকে সমর্থন করে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ সহ রাষ্ট্রীয় সম্পদ ও জনগণের জানমালের ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে সরকার ও রাষ্ট্রবিরোধী শ্লোগান প্রদান ও বিশৃঙ্খলা করার লক্ষ্যে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটান। পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করতে গেলে আতঙ্ক সৃষ্টি করতে পুলিশের উদ্দেশ্যে ককটেল নিক্ষেপ করে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ দুই রাউন্ড রাবার বুলেট ছুড়লে তারা ছত্রভঙ্গ হয়ে পালিয়ে যান। এ সময় পাঁচটি ককটেল জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় গুলশান থানার উপপরিদর্শক মো. মাহবুব হোসাইন বাদী হয়ে সন্ত্রাস বিরোধী আইনে মামলা করেন। এতে ১১৮ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ৮০/১০০ জনকে আসামি করা হয়।
Leave a Reply