কামরুল হাসান, কোটালিপাড়া : গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলায় অবৈধ ভাবে ফসলি জমি ধ্বংস করে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালী একটি বালু চক্রের বিরুদ্ধে।
সম্প্রতি ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার সাদুল্লাপুর ইউনিয়নের কোনেরভিটা গ্রামে।
এ ঘটনার বিচার ও নিজের পৈতৃক সম্পত্তির পুনরুদ্ধারের দাবি জানিয়ে কোটালীপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী হরিচাঁদ মণ্ডল।
অভিযোগ সূত্রে জানাগেছে উপজেলার ১১ নং কোনেরভিটা মৌজার আর এস ৪৩৪ এসএ ৩৭৫ এবং বিআরএস ৭৩৩ নং খতিয়ানের ২২৭৮ নং দাগের ১একর ৭ শতাংশ ভূমির মধ্যে ৫৩ শতাংস সম্পত্তির রেকর্ডীয় মালিক থাকেন রাজেন্দ্র নাথ মন্ডল।পরবর্তিতে দুই-পুত্র হরিচান মন্ডল ও অমৃত লাল মন্ডল কে ওয়ারিশ রাখিয়া রাজেন্দ্র নাথ মন্ডল মৃত্যু বরণ করলে।হরিচান মন্ডল ও অমৃত লাল মন্ডল তার পিতার রেখে যাওয়া সম্পত্তি ওয়ারিশ সুত্রে প্রাপ্ত হইয়া উক্ত কৃষি জমিতে চাষাবাদ করিয়া আসিতেছেন।এদিকে জমির মালিক হরিচান মন্ডল জীবিকার তাগিদে দূরে অবস্থান করার সুযোগে স্থানীয় শিশির কুমার মজুমদার, সূর্যকান্ত মজুমদার, অসিত মজুমদার ও কিশোর মজুমদারসহ বালু খেকো একটি প্রভাবশালী চক্র জোরপূর্বক তাদের জমি দখল করে বালু উত্তোলন করে ।
পরবর্তীতে সরকারের পক্ষ থেকে জমির সীমানা নির্ধারণ করে দেওয়া হলেও অভিযুক্তরা সেটা অমান্য করে। সরকারের মাটি ব্যবস্হাপনা ও বালু মহাল আইন লংঘন করে অবৈধ ভাবে ড্রেজার বসিয়ে প্রায় ৪ লক্ষ ঘনফুট বালু উত্তোলন করে বিক্রি করে দেয়। ভুক্তভোগী হরিচাঁদ মণ্ডলের দাবি, অবৈধভাবে বালু তোলার ফলে তার কৃষি জমি সম্পূর্ণ ধসে পুকুরে পরিণত হয়েছে। যার ফলে তিনি অপূরণীয় ক্ষতির সনমুখীন হয়ে পড়েছেন।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) সরেজমিনে গেলে ভুক্তভোগী হরিচাঁদ মণ্ডল কান্নাজড়িত কণ্ঠে সাংবাদিকদের জানান, “আমি একজন সাধারণ ও দরিদ্র মানুষ। পেটের তাগিদে বাইরে কাজ করতে যাওয়ার সুযোগে ওরা আমাদের কৃষি জমি ধ্বংস করে দিয়াছে। ড্রেজার দিয়ে ২০ লাখ টাকার বালু বিক্রি করছে আর আমার জমি কেটে পুকুর বানিয়েছে। এখন আমি আমার পরিবার নিয়ে দিশেহাঁরা হয়ে পড়েছি।
এ বিষয়ে জমির দখল পুনরুদ্ধারের জন্য উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে। এবং বিষয়টি তদন্তপূর্বক দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে ভুক্তভোগী আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
এব্যাপারে অভিযুক্ত কিশোর মজুমদারের কাছে জানতে চাইলে তিনি বালু উত্তোলনের কথা অস্বীকার করে বলেন আমার কাকা শিশির মজুমদার বালু উত্তোলন করে বিক্রি করেছেন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাগুফতা হক বলেন অভিযোগের বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
Leave a Reply