শাহীন আলম লিটন, কুষ্টিয়া : কুষ্টিয়ায় মৃত চেয়ারম্যানের নামে সরকারি চাল উত্তোলনের নথি, খাদ্যশস্য বিতরণে অনিয়মসহ বিভিন্ন অভিযোগে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলা খাদ্যগুদামে অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কুষ্টিয়া সমন্বিত জেলা কার্যালয়।
বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুরের দিকে দৌলতপুর উপজেলা খাদ্যগুদামে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে সরকারি বিভিন্ন কর্মসূচির খাদ্য বিতরণের নথিপত্র পরীক্ষা করা হয়। এ সময় বেশ কিছু নথিতে কিছুটা অসংগতি পাওয়া যায় বলে জানিয়েছে দুদক।
অভিযানে ফিলিপনগর ইউনিয়নের ভিজিডি কার্ডধারীদের জন্য বরাদ্দ করা চালের মূল নথিতে মৃত চেয়ারম্যানের নাম পেয়েছেন কর্মকর্তারা। তার নামে ১০৭ বস্তা (৩ দশমিক ২১০ মেট্রিক টন) চাল গ্রহণের তথ্য পাওয়া গেছে। তবে প্রাপ্তি স্বীকারপত্রে ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান একরামুল হক স্বাক্ষর পেয়েছেন তারা।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, ফিলিপনগর ইউনিয়নের দুস্থ মহিলাদের জন্য বরাদ্দ করা চাল বিতরণ-সংক্রান্ত নথি যাচাই করতে গিয়ে সাবেক মৃত চেয়ারম্যান নইমুদ্দিন সেন্টুর নামে চাল বরাদ্দের তথ্য পাওয়া যায়। নথিতে ১০৭ বস্তা বা ৩ দশমিক ২১০ মেট্রিক টন চাল গত ১৩ অক্টোবর গ্রহণের উল্লেখ রয়েছে।
অভিযানে নথিতে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর না থাকায় সংশ্লিষ্ট প্যানেল চেয়ারম্যান একরামুল হককে তলব করে দুদক। পরে বরাদ্দের চাল উত্তোলনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রে স্বাক্ষর করতে গিয়ে জটিলতায় পড়েন ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান একরামুল হক। অথচ ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন চেয়ারম্যান নঈম উদ্দিন সেন্টু। ফলে তার নামে কীভাবে চাল বরাদ্দ দেখানো হয়েছে তা জানা যায়নি।
প্রায় দুই বছর আগে চেয়ারম্যান সেন্টুর মৃত্যুর পর প্যানেল চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন প্যানেল চেয়ারম্যান একরামুল হক।
এ বিষয়ে ফিলিপনগর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান একরামুল হক বলেন, দুদকের ডাকে গত মাসের ১৮ তারিখে সরকারি বরাদ্দকৃত ভিডিটি চালের নথিতে স্বাক্ষর করতে গিয়ে তিনি নথিতে মৃত চেয়ারম্যান নঈম উদ্দিন সেন্টুর নাম দেখতে পান। অথচ নথিতে সেন্টুর নাম কীভাবে এলো, সে বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না।
এদিকে দুদকের কুষ্টিয়া সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক বুলবুল আহমেদের নেতৃত্বে বুধবার বেলা সোয়া ১২টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত খাদ্যগুদামে অভিযান পরিচালিত হয়। এ সময় সরকারি বিভিন্ন কর্মসূচির আওতায় খাদ্যশস্য বিতরণ, মজুত ও সংরক্ষণসংক্রান্ত নথিপত্র পরীক্ষা করেন কর্মকর্তারা।
এর আগে খাদ্যগুদামে চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে মঙ্গলবার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সেলিম রেজাকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়।
কুষ্টিয়া জেলা খাদ্য কর্মকর্তা আল ওয়াজিউর রহমান বলেন, বিভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে সেলিম রেজাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কুষ্টিয়া সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক বুলবুল আহমেদ বলেন, বিভিন্ন অভিযোগের প্রেক্ষিতে দৌলতপুর উপজেলা খাদ্যগুদামের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তদন্ত করা হয়েছে। নথিপত্র যাচাইয়ের সময় বেশ কিছু অসংগতি পাওয়া গেছে।
তিনি আরও বলেন, ফিলিপনগর ইউনিয়নের ভিজিডি কার্ডধারীদের জন্য বরাদ্দ করা চালের মূল নথিতে মৃত চেয়ারম্যানের নাম পাওয়া গেছে। তবে, প্রাপ্তি স্বীকারপত্রে প্যানেল চেয়ারম্যানের স্বাক্ষরে বরাদ্দের চাল নিয়ে গেছেন আরেকজন। এসব বিষয়কে মাথায় রেখে অন্য সব বিষয়ে তদন্ত করছি। নথিপত্র চাওয়া হয়েছে, আমরা অধিকতর তদন্ত করবো।
Leave a Reply