শাহীন আলম লিটন, কুষ্টিয়া : যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড কুষ্টিয়ায় কুমারখালীর জগন্নাথপুর আইডিয়াল কলেজে শিক্ষকের সংখ্যা ১৪ জন। এ প্রতিষ্ঠান থেকে চলতি বছর এইচএসসি পরীক্ষা দেন একজন শিক্ষার্থী। সেই একমাত্র পরীক্ষার্থীও অকৃতকার্য হয়েছেন। একই অবস্থা মিরপুর উপজেলার হাজী নুরুল ইসলাম কলেজেরও। প্রতিষ্ঠানটি থেকে আটজন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেনি একজনও।
স্থানীয় ও কলেজ সূত্রে জানা যায়, ২০০৪ সালে প্রতিষ্ঠিত জগন্নাথপুর আইডিয়াল কলেজটি এখন পর্যন্ত এমপিওভুক্ত হয়নি। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে মোট ১৪ জন শিক্ষক রয়েছেন। চলতি বছর প্রতিষ্ঠানটিতে তিনজন এইচএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন। তাদের মধ্যে দুজন পরীক্ষায় অনুপস্থিত ছিলেন। একজন পরীক্ষায় অংশ নিলেও ইংরেজি বিষয়ে অকৃতকার্য হন।
জগন্নাথপুর আইডিয়াল কলেজের অধ্যক্ষ মজিবর রহমান বলেন, আমরা গ্রাম থেকে ধরে ধরে ভর্তি করি। এটা চরসংলগ্ন এলাকা। ছাত্রদের ডাকতে গেলে কেউ ধান কাটে, কেউ বলে পরে আসব। ২০১৫ সাল থেকে আমাদের ভাটা শুরু হয়েছে। তিনজন পরীক্ষার্থীর মধ্যে দুজন অনুপস্থিত ছিল, একজন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিল। সেও ফেল করেছে।
অন্যদিকে কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার আমলা সদরপুর বামুনপাড়ার হাজী নুরুল ইসলাম কলেজেও এইচএসসি পরীক্ষায় পাসের হার শূন্য। কলেজ সূত্রে জানা যায়, ২০০০ সালে কলেজটি প্রতিষ্ঠার পর থেকে এখন পর্যন্ত এমপিওভুক্ত হতে পারেনি। বর্তমানে কলেজটিতে ১৩ জন শিক্ষক রয়েছেন। এ বছর প্রতিষ্ঠানটির মোট পরীক্ষার্থী ছিলেন ১৫ জন। তাদের মধ্যে সাতজন পরীক্ষায় অনুপস্থিত ছিলেন। পরীক্ষায় অংশ নেন আটজন। অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেননি।
হাজী নুরুল ইসলাম কলেজের অধ্যক্ষ শরিফুল ইসলাম বলেন, আমরা অবৈতনিকভাবে ২৬ বছর ধরে কলেজের পেছনে শ্রম দিচ্ছি। এখন পর্যন্ত আমাদের বেতন হয়নি। এবার আমাদের বিপর্যয় হয়েছে। আমরা ঝরে পড়া শিক্ষার্থীকে টাকা-পয়সা দিয়ে কলেজে ভর্তি করাই। সেক্ষেত্রে এবার দুর্ভাগ্য, যার ফলে আমাদের কেউ পাস করতে পারেনি।
এদিকে যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৪৪ দশমিক ৯২ শতাংশ। এ বোর্ডের অধীনে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১ লাখ ১২ হাজার ৭৯১ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৫০ হাজার ৬৬৮ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৩ হাজার ২২৮ জন শিক্ষার্থী।
গত বছর বোর্ডে পাসের হার ছিল ৫০ দশমিক ২০ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন ৫ হাজার ৯৯৫ জন। ফলে গত বছরের তুলনায় এবার পাসের হার ও জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যা উভয়ই কমেছে।
Leave a Reply