শাহীন আলম লিটন, কুষ্টিয়া : সাত দফা দাবিতে জামায়াতসহ ১১ দলীয় ঐক্যজোটের লং মার্চ’র সমাপনি সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামের আমির ডাঃ শফিকুর রহমান গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে বলেছেন, আমরা আজ রাস্তায় নেমেছি, জনগণের জন্য, আপনাদের জন্য। আমরা আপনাদের সামনে হাজির হয়েছি যে ৭ দফা নিয়ে সেটা আমাদের দলীয় দাবী না তা আপনাদের দাবী। আপনাদের প্রতি বর্তমান সরকার যে অপমান করেছে। আপনাদের সাথে এক হয়ে আমরা এসেছি তার প্রতিশোধ নিতে। তিনি বলেন, আমরা চাইনি এমন একটা আন্দোলন দেশের এক মাথা থেকে আরেক মাথায় পর্যন্ত। আমরা সবাই শহীদের কথা বলি। কিন্তু অত্যান্ত দুঃখজনক হলেও সত্য যে এ সরকার শহীদদের সম্মান করে না।
তিনি বিএনপি সরকারের প্রতি হুসিয়ারী উচ্চারণ করে বলেন, ভালোয় ভালোয় ৭ দফা মেনে নেন। ৭ দফা না মানলে ১ দফা অনিবার্য হয়ে উঠবে। ইনশাল্লাহ জনগণের এই দাবী পুরণ করেই আমরা ঘরে ফিরবো। জনগণের ভালোবাসায় সরকারে এসে এখন যাঁরা গণভোটের সিদ্ধান্ত অমান্য করছেন, তাঁদের সিদ্ধান্ত জনগণ মেনে নেবে না।
পরিশেষে তিনি কুষ্টিয়া বাসীর প্রতি শহীদ আবরার ফায়াদের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, আপনারা পারবেন সব কিছুকে উপেক্ষা করে সামনে এগিয়ে যেতে। কেননা আপনাদেরই এক সন্তান দেশের জন্য ফেসবুকে একটা র্স্টাটার্স দিয়ে নিজের জীবন দিয়ে প্রমাণ করেছে সে দেশকে কত ভালোবাসে। তাই বলছি আমাদের সাথে আপনরাও ঢাকায় যাবেন কোন কিছুর বিনিময়ে নয়। একান্ত দেশপ্রেমের টানে।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাত ১২টার দিকে কুষ্টিয়ায় শহীদ আবরার ফায়াদ ষ্টেডিয়াম মাঠে আয়োজিত লং মার্চের সমাপনি সমাবেশে সাত দফা দাবিতে আয়োজিত ১১-দলীয় ঐক্যের সমাপনি সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ একে এম মহসিন আলীর সভাপতিত্বে এবং জেলা জামায়াতের সেক্রেটারী এনামুল হকের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার এবং সহকারী সেক্রেটারী হামিদুর রহমান আজাদ, এলডিপির কর্ণেল আলী আহমেদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক, এনসিপির এমপি আব্দুল হান্নান মাসুদ,লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ড. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, শিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম, ডাকসু ভিপি সাদিক কাইয়ুম, জিএস এস এম ফরহাদ, বিডিপি পার্টির চেয়ারম্যান আনোয়ারুল কবির চাঁদ। এ ছাড়া সমাবেশে এনসিপি, এবি পার্টি, জাগপা, লেবার পার্টি, ছাত্রশিবিরসহ ১১-দলীয় ঐক্যের বিভিন্ন কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা এবং সংসদ সদস্যরা বক্তব্য দেন। কুষ্টিয়ায় পৌছানের আগে আমীরে জামায়াত ডাঃ শফিকুর রহমান ঝিনাইদহ, কালীগঞ্জ ও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফাটকে বক্তব্য রাখেন।
বিএনপিকে ইঙ্গিত করে শফিকুর রহমান বলেন, যাঁরা নির্বাচনের আগে বলেছিলেন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বিজয়ী হলে তা বাস্তবায়ন করবেন, তাঁরা ইঞ্জিনিয়ারিং করে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর এখন বলছেন গণভোট মানেন না। ৭০ ভাগ ভোটার গণভোটের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ বলেছেন। সংসদে দাঁড়িয়ে তাঁরা বলেছেন, তাঁরা ওসব মেনে নিয়েছিলেন, ভোটটা যেন কোনো অবস্থায় বিলম্বিত না হয়। অর্থাৎ এখন গদি পেয়ে গেছেন এখন আর আর কোনো কথা নেই।
ডা. শফিকুর রহমান সরকারের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, “বিকাল থেকে শুরু করে এখন প্রায় ১২টা বাজতে চলেছে। কুষ্টিয়ার স্টেডিয়ামে আজকে ১২টা বাজছে, কিন্তু এর আগেই বর্তমান সরকার জাতির ১২টা বাজিয়ে দিয়েছে। শহীদদের রক্তের সাথে বেঈমানি করে গণভোটের রায় ও সংসদ নির্বাচনের ভোটে বৈষম্য সৃষ্টি করা হচ্ছে। জনগণ আর এই অন্যায় মেনে নেবে না। তিনি আরও বলেন, “গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ও জুলাই গণহত্যার নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করা আজ দেশের ১৮ কোটি জনতার প্রাণের দাবি। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত রাজপথের আন্দোলন থামবে না। প্রয়োজনে কুষ্টিয়া থেকে চূড়ান্ত এক দফার লড়াই শুরু হবে।
সমাবেশে ১১ দলীয় ঐক্য জোটের পক্ষ থেকে ৭ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়: ১. গণভোটের কাঙ্ক্ষিত রায় অবিলম্বে কার্যকর ও বাস্তবায়ন করা। ২. জুলাই গণহত্যার দ্রুত বিচার সম্পন্ন করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা। ৩. তেল, সার, বিদ্যুৎ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম সহনীয় পর্যায়ে এনে বাজার সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়া। ৪. চাঁদাবাজি, দুর্নীতি, দখলদারি ও স্বৈরাচারী শাসন ব্যবস্থার চিরতরে অবসান ঘটানো। ৫. আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নয়ন সাধন করে সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। ৬. বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব রাজনৈতিক ও হয়রানিমূলক মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহার। ৭. দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে দ্রুত গ্রহণযোগ্য ও সুষ্ঠু নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করা।
এছাড়াও স্থানীয় সংসদ সদস্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কুষ্টিয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল গফুর, কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজা, কুষ্টিয়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবজাল হোসেন, চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ পারভেজ রাসেল, চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট রুহুল আমীন। সভাপতির বক্তব্যে কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যক্ষ খন্দকার একেএম আলী মহসিন লংমার্চ সফল করায় কুষ্টিয়াবাসীকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান এবং আনুষ্ঠানিকভাবে লংমার্চ ও জনসভার সমাপ্তি ঘোষণা করেন। কুষ্টিয়ায় পৌছানের আগে আমীরে জামায়াত ডাঃ শফিকুর রহমান ঝিনাইদহ, কালীগঞ্জ ও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফাটকে বক্তব্য রাখেন।
Leave a Reply