কে এম সাইফুর রহমান, গোপালগঞ্জ : গোপালগঞ্জে আগুনে পুড়ে সর্বশান্ত হলো দরিদ্র এক পরিবার। গভীর রাতে আগুনে ঘরবাড়ি পুড়ে সব হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে দরিদ্র ওই পরিবার। পরনের কাপড় ছাড়া কিছুই অবশিষ্ট নেই ওই পরিবারটির। ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায় আগুনে ভস্মীভূত হয়ে পরিবারটির কমপক্ষে ১৫/২০ লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই সংবাদ লেখা পর্যন্ত সাত সদস্যের ওই পরিবারটির খাবার খাওয়া ও রাত্রি যাপনের বিষয়টিও রয়েছে অনিশ্চিয়তার মধ্যে।
ঘটনাটি ঘটেছে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার নিজড়া ইউনিয়নের উত্তরপাড়া গ্ৰামে। ভয়াবহ এই আগুনের তান্ডব সম্পর্কে এখন পর্যন্ত ভুক্তভোগী পরিবার, ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তাগণ ও এলাকাবাসী আগুন লাগার সূত্রপাতের বিষয়ে কোনো ধারনা দিতে পারেনি।
এলাকার সাধারণ মানুষ দলে দলে এসে সমবেদনা জানিয়েই চলে যাচ্ছেন নিজ নিজ গৃহে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের চোখে মুখে এক সাগর হতাশা বিরাজ করছে। ভুক্তভোগী পরিবারের সাথে কথা বলে এমনটাই দেখা গেছে।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের প্রধান জয়তুন বেগমের সাথে কথা বলে জানা গেছে, গতকাল শনিবার (৩ অক্টোবর) দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার সময় হঠাৎ ঘুম ভেঙ্গে যায়, তখন বসত ঘরের পাশে থাকা কাছারি ঘরে আগুন দেখতে পান। কোন কিছুই বুঝে ওঠার আগেই বসত ঘরসহ রান্না ঘরে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এসময় তার সোর চিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে আসে এবং আগুন নিভানোর চেষ্টা করেন। আগুন নিয়ন্ত্রণে না এসে গতি বাড়তে থাকলে ফায়ার সার্ভিসে ফোন করা হয়। গোপালগঞ্জ শহর থেকে ফায়ার সার্ভিস আসতে আসতে বসতঘরসহ তিনটি ঘরই পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এখন আমরা দিশেহারা, আমাদের কোন খাওয়ার ব্যবস্থা নেই, রাতে মাথা গোঁজারও কোন স্থান নেই। আমাদের পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম আমার ছেলে মামুন মোল্লা ছেলেটাও অনেক ভেঙ্গে পড়েছে। এখন আমাদের সরকারি সাহায্য ছাড়া পুনরায় ঘরবাড়ি তৈরি করার কোন আর্থিক সক্ষমতা নেই। আমি সরকারের কাছে সাংবাদিকদের মাধ্যমে সাহায্য চাই।
এ বিষয়ে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) কৌশিক আহমেদ বলেন, আগুনে ঘরবাড়ি পোড়ার মর্মান্তিক ওই ঘটনাটি জেনেছি। আমি খুবই মর্মাহত। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে জেলা প্রশাসক স্যারের কাছে আবেদন পাঠানোর ব্যবস্থা নিবো, আশা করছি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার খুব অল্প সময়ের মধ্যে সরকারি সাহায্য প্রাপ্ত হবেন।
Leave a Reply