ডেস্ক রিপোর্ট : জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন এমপি বলেছেন, নির্বাচন কমিশনে অতিরিক্ত সচিব হিসেবে একজন অবসরপ্রাপ্ত কিন্তু দলীয় পদধারী ও মিছিলে অংশ নেওয়া ব্যক্তিকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশন তো কোনো দলীয় প্রতিনিধির জায়গা নয়, সেখানে নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের নিয়োগ দিতে হবে, যাতে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে; কিন্তু কোনো এক কুমতলবে ও কূটকৌশলের আশ্রয় হিসেবে নির্বাচন কমিশনকে নিয়ন্ত্রণ করার স্বার্থেই তারা দলীয় ব্যক্তিকে সেখানে বসিয়েছে।
রোববার ঝিনাইদহ পায়রা চত্বরে দলীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আখতার হোসেন আরও বলেন, বাংলাদেশের ১২টি সংস্থায় ও প্রতিষ্ঠানে সরাসরি দলীয় পদধারী ব্যক্তিদের তারা নিয়োগ দিয়েছে। শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন, বিএসইসি, ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনসহ নানা প্রতিষ্ঠানে তারা চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়েছে এবং যাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, তারা সবাই বিএনপির দলীয় পদধারী নেতাকর্মী।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও সংস্থাগুলোতে যদি নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের নিয়োগ না দিয়ে দলীয় ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়া হয়, তাহলে বাংলাদেশে আর কোনোভাবে সুষ্ঠু নিয়মনীতি বা গণতন্ত্র অবশিষ্ট থাকে না।
এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেন, আমরা বাংলাদেশের এই অধঃপতন দেখতে চাই না। বরং বাংলাদেশ রাষ্ট্রটাকে নতুন করে গড়তে চাই- যে বাংলাদেশে গণতন্ত্র, সুবিচার ও নাগরিক অধিকার থাকবে এবং হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সবাইকে সাথে নিয়ে একটি নতুন বাংলাদেশের প্রত্যাশা পূরণ হবে।
তিনি বলেন, নাগরিকেরা বিভিন্ন অফিসে গিয়ে যে হয়রানির শিকার হয় তা দূর করে এবং নাগরিক সেবা বৃদ্ধি করে বাংলাদেশকে একটি নাগরিকবান্ধব দেশ হিসেবে গড়ে তোলার যে লড়াই, তার অংশ হিসেবেই সামনে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জাতীয় নাগরিক পার্টি অংশগ্রহণ করবে।
সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন- এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক সরোয়ার হোসেন তুষার, নারীশক্তির নেত্রী ডা. মাহমুদা মিতু এমপি, যুগ্ম আহ্বায়ক আলি হাসান যুবায়ের ও ঝিনাইদহ সদর পৌরসভার মেয়র প্রার্থী তারেক রেজাসহ স্থানীয় নেতারা।
এর আগে বিকাল পৌনে ৫টার দিকে ‘দেশ গঠনের জুলাই জাগরণ’ স্লোগানকে সামনে নিয়ে স্থানীয় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে পদযাত্রা শুরু করেন এনসিপির কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব আখতার হোসেন এমপি। পদযাত্রা শেষ হয় সমাবেশস্থল পায়রা চত্বরে।
Leave a Reply