ডেস্ক রিপোর্ট : নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের আসনে সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্যদের তদারকির ক্ষমতা দেওয়া পুরোপুরি ‘অসাংবিধানিক’ ও ‘বেআইনি’ বলে আখ্যা দিয়ে জাতীয় সংসদের স্পিকারকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
স্পিকারের কাছে গত ২৩ আগস্ট আনুষ্ঠানিক লিখিত আপত্তির চিঠি জমা দেওয়া হয়। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শিশির মনির তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই চিঠি ও পয়েন্টগুলোর কথা সামনে আনলে বিষয়টি সামনে আসে। চিঠিতে ৬৭ জন সংসদ সদস্যের স্বাক্ষর রয়েছে।
চিঠিতে সংসদ সদস্যরা উল্লেখ করেছেন, ‘সংবিধান ও বিদ্যমান আইন অনুযায়ী কোনো নির্দিষ্ট আসনে নির্বাচিত এমপির ওপর সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যদের তদারকির কোনো সুযোগ নেই। কোথাও কোথাও এই ধরনের দায়িত্ব বণ্টন সরাসরি সংসদীয় রীতি ও সংবিধানের পরিপন্থি।’
এতে বলা হয়, ‘জবাবদিহিতার কাঠামোর কারণেই কোনো আইন একজনকে অপরজনের কাজ তদারকি, অনুমোদন বা সমন্বয়ের ক্ষমতা দেয়নি। বিশ্বে নারী প্রতিনিধিত্বে শীর্ষের রয়েছে রুয়ান্ডা (বর্তমানে ৬৩.৮%)। সেখানে সংরক্ষিত আসনের সদস্যরা স্থানীয় নারী পরিষদ ও জেলা পরিষদ সমন্বয়ে গঠিত নির্বাচকমণ্ডলীর (Electoral College) মাধ্যমে নির্বাচিত হন। তাদের নির্বাচনি এলাকা থাকে একটি সম্পূর্ণ প্রদেশ। প্রদেশ-পর্যায়ের সংরক্ষিত সদস্য কোনো প্রত্যক্ষভাবে নির্বাচিত অধস্তন ডেপুটির কাজ তদারকির ক্ষমতা রাখেন না। তাদের ম্যান্ডেট নীতিনির্ধারণী এবং আইন প্রণয়নের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। অর্থাৎ, বিশ্বের কোনো প্রতিনিধিত্বমূলক গণতান্ত্রিক কাঠামোতেই একই এলাকায় একজন প্রত্যক্ষভাবে নির্বাচিত সদস্যের কাজের ওপর অন্য কোনো সদস্যের আইনি তদারকি বা সমন্বয়ের নজির নেই।
এছাড়া চিঠিতে পাকিস্তান, তানজানিয়া, উগান্ডা ও কেনিয়া, নিউজিল্যান্ড এবং ভারতের সংসদে নারী প্রতিনিধিত্বের ‘মডেল’ তুলে ধরা হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়, ‘এমতাবস্থায় আইনের শাসন, স্বচ্ছতা-জবাবদিহিতা ও প্রতিনিধিত্বমূলক গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা বজায় রাখতে প্রত্যক্ষভাবে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের নির্বাচনি এলাকায় সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যদের দায়িত্ব প্রদানের উদ্যোগ ও প্রস্তাবিত আইন সংশোধনের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করার কোনো বিকল্প নেই। অতএব, উপর্যুক্ত বিষয়গুলো গভীরভাবে পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করার অনুরোধ করা হলো।’
Leave a Reply