শাহীন আলম লিটন, কুষ্টিয়া : কুষ্টিয়ায় ফকির লালন সাঁইয়ের আখড়া বাড়ি থেকে পেট্রোল বোমা ও ‘বোমাসদৃশ বস্তু’ বস্তু উদ্ধার করেছে পুলিশ।
রবিবার (১৮ অক্টোবর) দিবাগত মধ্যরাতে আখড়া বাড়ির প্রধান ফটকের কাছ থেকে একটি সাদা রঙের ব্যাগে রাখা বোমা সাদৃশ্য বস্তু উদ্ধার করে পুলিশ। রাতেই ঢাকা থেকে পুলিশের এসআরইউ ইউনিটের সদস্যরা বোমাগুলি নিষ্ক্রিয় করেন। ঘটনার পর থেকে আখড়া বাড়ি এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
পুলিশ জানায়, রবিবার রাত ১২টার দিকে লালন আখড়া বাড়ির প্রধান ফটকের পাশে একটি নারিকেল গাছের নিচে একটি মিষ্টির সাদা প্যাকেটে মোড়ানো পেট্রোল ‘বোমাসদৃশ বস্তু’ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেয় স্থানীয় এক বাউল।
অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে মাজার এলাকা ফাঁকা করে দেয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। মাজারে প্রবেশের মূল ফটক বন্ধ করে দেওয়া হয়। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেখানে পুলিশ, র্যাব ও আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রবিবার দিবাগত রাতে মাজার কমপ্লেক্সের মূল প্রবেশদ্বারের পাশে একটি সাদা ব্যাগে মোড়ানো সন্দেহজনক বস্তু পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় সাধুরা।
পরে তারা সেখানে দায়িত্বে থাকা কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিনকে বিষয়টি জানান। ঘটনাস্থলে গিয়ে ব্যাগের ভেতরে পেট্রোল ও বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের মতো কিছু দেখতে পান তিনি। এরপর বিষয়টি পুলিশ সুপারকে জানানো হয়।
পরে মাজার এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করে ব্যাগটি পাহারায় রাখে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পুলিশ সুপারের মাধ্যমে ঢাকায় যোগাযোগ করা হলে বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিটের ৪ সদস্যের একটি দল সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকালে কুষ্টিয়ায় পৌঁছায়। পরে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ব্যাগের ভেতরে দুটি বোতলভর্তি পেট্রোল ও একটি টাইম বোমা থাকার বিষয়টি শনাক্ত করা হয়।
এ ব্যাপারে কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন বলেন, রাতে সাধুরা পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকা একটি ব্যাগ দেখে আমাকে জানালে আমি তাৎক্ষণিক সেখানে গিয়ে ব্যাগ দেখে পুলিশ সুপার মহোদয়কে জানাই। পরে ঢাকা থেকে ৪ সদস্যবিশিষ্ট বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিট সকালে এসে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে। তাদের মাধ্যমে জানতে পারি, সেটি টাইম বোমা।
ওসি আরোও বলেন, এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। খুব দ্রুতই তাদের শনাক্ত করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন তারা।
Leave a Reply