কে এম সাইফুর রহমান, গোপালগঞ্জ : জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এবং দেশীয় প্রজাতির মাছ সংরক্ষণের লক্ষ্যে গোপালগঞ্জ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আরিফ- উজ- জামানের দিকনির্দেশনায় সরকার নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারী জাল ও শর্ট লাইট দিয়ে অবৈধভাবে মৎস্য শিকারীদের বিরুদ্ধে দিনব্যাপী অভিযান পরিচালনা করে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা প্রশাসন।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দুপুর থেকে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার হরিদাসপুর ইউনিয়ন ও উলপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন খাল-বিল ও মধুমতি নদীর তীরবর্তী এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিপুল সংখ্যক নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারী জাল ও শর্ট লাইট দিয়ে মৎস্য শিকার করার অপরাধে বাবু খাঁ (৪২) নামের একজনকে আটক করে ভ্রাম্যমান আদালত।
এ সময় নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারী জালে আটকা পড়া জীবিত মাছগুলো নদীতে অবমুক্ত করে দেওয়া হয় এই লক্ষ্যে যে, এক সময় ওই মাছগুলো বড় হয়ে স্থানীয়দের আমিষের চাহিদা পূরণ করতে সক্ষম হবে। আর মৃত মাছগুলো জনসাধারণকে দেখানোর জন্য তীরে নিয়ে আসা হয়।
পরে রাত সাড়ে ১০টায় অভিযান শেষে রাউত খামার ব্রীজের নিচে তীরে ফিরলে সেখানে উপস্থিত শত শত উৎসুক সাধারণ জনগণের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, সরকার নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারী জাল ও শর্ট লাইট দিয়ে অবৈধভাবে মৎস্য শিকারীদের বিরুদ্ধে গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসন সর্বদাই জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করবে। অভিযান ও ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেন সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ রুহুল আমিন শরিফ। এসময় তিনি আরো বলেন, দেশ ও জাতির স্বার্থে সরকার নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারী জাল ও শর্ট লাইট ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের পাশাপাশি দেশের জনসাধারণকেও সোচ্চার হওয়ার উদাত্ত আহ্বান জানান।
এসকল নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারী জাল ও শর্ট টলাইট ব্যবহারকারীদের নাম ও তথ্য দিয়ে প্রশাসনকে সহযোগিতা করারও অনুরোধ জানান তিনি।
অভিযানে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য অফিসার দেবলা চক্রবর্ত্তী, আনসার ও ভিডিপি বাহিনীর কর্মকর্তা ও সদস্যগণ, জেলায় বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় কর্মরত গণমাধ্যমকর্মীবৃন্দ সহ গ্রাম পুলিশ ও দফাদার উপস্থিত ছিলেন।
জনস্বার্থে সংক্ষিপ্ত দিকনির্দেশনা মূলক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সভা শেষে তিনি জনসমক্ষে অভিযানে উদ্ধারকৃত বিপুল সংখ্যক নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারী জালে আগুন ধরিয়ে পুরো জাল ধ্বংস না হওয়া পর্যন্ত প্রায় ঘন্টাখানেক সেখানে অবস্থান করেন। এছাড়াও শর্ট লাইট দিয়ে মৎস্য শিকারের অপরাধ স্বীকার করায় উপস্থিত সকলের অনুরোধে অভিযুক্ত বাবু খাঁ’র মুচলেকা নিয়ে শেষ বারের মতো তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। আর জব্দকৃত মাছগুলো এতিমখানায় এতিম বাচ্চাদের খাওয়ার জন্য বিলিয়ে দেওয়া হয়।
জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা প্রশাসকের দিকনির্দেশনায় জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান জেলাব্যাপী সারা বছরই চলমান থাকবে বলেও জানান সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ রুহুল আমিন শরিফ।
Leave a Reply