ডেস্ক রিপোর্ট : অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, বকেয়া বিমা দাবি পরিশোধে প্রয়োজনে কোম্পানি বিক্রি করে গ্রাহকদের অর্থ পরিশোধের কথা করা হবে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর মতিঝিল এলাকায় দিলকুশায় বিমা ভবনে বিমা খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি এসব কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, যে মানুষটি নিরাপত্তার জন্য নিজের কষ্টার্জিত টাকা দিয়ে ইন্স্যুরেন্স করে, তাকে কিভাবে বঞ্চিত করা সম্ভব? সব সম্পদ (কোম্পানির) বিক্রি হয়ে যাওয়ার পরও তার দাবি পরিশোধ করা উচিত।
বিমা গ্রাহকদের মোট সাত হাজার কোটি টাকার বেশি বকেয়া থাকার তথ্য অর্থমন্ত্রীকে অবহিত করেন বিমা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মীর নাদিয়া নিভিন।
আমির খসরু বলেন, দীর্ঘদিন ধরে গ্রাহকদের বিমা দাবি পরিশোধ না করার বিষয়টি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। যেসব কোম্পানি দাবি পরিশোধ করছে না, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, বিমা কোম্পানির দায়িত্ব হলো- গ্রাহকদের দাবি পরিশোধের জন্য পর্যাপ্ত তারল্য নিশ্চিত রাখা। কিন্তু কিছু কোম্পানি গ্রাহকের পাওনা পরিশোধ না করে জমি ও অন্যান্য সম্পদ কিনেছে এবং বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ করেছে। এমনকি সরকারি সিকিউরিটিজেও বিনিয়োগ করেছে। অথচ গ্রাহকদের পাওনা পরিশোধ করেনি। এ ধরনের পরিস্থিতিতে প্রয়োজন হলে কোম্পানিগুলোকে তাদের সম্পদ বিক্রি করে গ্রাহকদের দাবি পরিশোধ করতে হবে।
বিমা খাতের পরিসর অনেক বড় হলেও জীবন বিমা ও সাধারণ বিমা উভয় খাতই সেভাবে এগোতে পারেনি মন্তব্য করে তিনি বলেন, বিমাটা আমরা ঠিকভাবে সে জায়গায় নিয়ে যেতে পারিনি। এটা হচ্ছে একটা দিক। আরেকটা হচ্ছে বর্তমান বিমার যে অবস্থায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে, এখানে খুব বেশি সুখবর নেই।
তিনি বলেন, আমরা দায়িত্ব নেওয়ার পর দেখছি একটা বিশাল ধরনের অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি এবং অনেক অনিয়ন্ত্রিত বিষয় হয়েছে বিমা খাতে। এখানে নিয়ন্ত্রক সংস্থার ভূমিকা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
বিমার মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার পর ৫৭ শতাংশ দাবি এখনো অপরিশোধিত বলে জানান অর্থমন্ত্রী।
বিমা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনকে (বিএসইসি) একটি সমন্বিত ব্যবস্থার মধ্যে আনার কথা বলেন তিনি।
অর্থমন্ত্রী বলেন, অনেক কোম্পানি আসল ও ভুয়া- এই দুই ধরনের সার্ভার ব্যবহার করত। এখন দুইটি সার্ভার রাখার সুযোগ বন্ধ করা হয়েছে। পরিদর্শনের সময় দুটি সার্ভার পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিমা কোম্পানি একীভূত বা মার্জার করার আইনের বিষয়ে তিনি বলেন, এখন ঝুঁকিভিত্তিক তদারকিতে যাচ্ছি। প্রত্যেকটি কোম্পানি তাদের সুপারভিশনটা ইনস্ট্রুমেন্টের মাধ্যমে অটোমেশনের মাধ্যমে ডিজিটালাইজেশনের মাধ্যমে করতে হবে। সবাইকে অটোমেশনে যেতে হবে। বিমা খাত যাতে অনিয়ন্ত্রিত খাতে পরিণত না হয়, সেজন্য সরকার বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে। ব্যাংকিং খাতের মতো বীমা খাতেও প্রয়োজনীয় আইন ও বিধিবিধানে পরিবর্তন আনা দরকার। এ ধরনের পরিবর্তন আগামী দিনে সংসদের মাধ্যমে আনা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এ সময় অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক ও বিমা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মীর নাদিয়া নিভিন উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে সকালে বিমা ভবনে পাঁচটি জীবন বিমা কোম্পানির বকেয়া হওয়া বিমা দাবির মধ্যে গ্রাহকদের ২৩ কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়।
Leave a Reply