নিজস্ব প্রতিনিধি: গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার জলিরপাড় ইউনিয়নে সরকারি খাসজমি ও জলাশয় দখল, ভরাট এবং স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে এসব কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে অর্থ লেনদেন ও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ এবং তথ্য জানতে গিয়ে সংবাদকর্মীদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। ফলে সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।
জলিরপাড় ইউনিয়নের কলিগ্রামের ওয়াইএমসি’র দক্ষিণ পাশে সরকারি খাস খতিয়ানভুক্ত জমিতে দোকানঘর নির্মাণের অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, ওই জমি ব্যক্তিগতভাবে বিক্রি বা হস্তান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় অসীম মাঝি (৫০) ও লিপ্টন বৈরাগীর (৪৫) বিরুদ্ধে যথাক্রমে জমি বিক্রি ও অবৈধভাবে ক্রয়ের অভিযোগ উঠেছে। তবে জমিটির মালিকানা ও কথিত লেনদেনের বৈধতা সরকারি রেকর্ড ও তদন্ত ছাড়া নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, তালবাড়ি থেকে দক্ষিণ জলিরপাড়ের শান্তিপুর পর্যন্ত এলাকায় আগে সরকারি জায়গা দখলমুক্ত করে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হলেও পরে সেখানে প্রায় ১৫০–২০০টি ঘর, দোকান ও অন্যান্য স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। পাশাপাশি দক্ষিণ জলিরপাড়ে সরকারি জলাশয়ের একটি অংশ বালু দিয়ে ভরাট করে দোকানঘর নির্মাণেরও অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, জলাশয় ভরাট ও দোকানঘর নির্মাণের অনুমোদনকে কেন্দ্র করে জলিরপাড় ইউনিয়নের উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তা রিমন বিশ্বাস ও সহকারী ভূমি কর্মকর্তা মোঃ আব্দুর রাজ্জাক মৃধার বিরুদ্ধে অর্থ লেনদেন ও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের প্রতিকার চেয়ে পূর্বেও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ ও মানববন্ধন করা হয়েছে বলে স্থানীয়রা দাবি করেন। তবে অভিযোগগুলোর তদন্ত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে সরকারি জমি দখলের বিষয়ে তহশিলদার আব্দুর রাজ্জাক মৃধার বক্তব্য জানতে গেলে সংবাদকর্মীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ ও মামলা করার হুমকির অভিযোগ ওঠে। সংবাদকর্মীদের দাবি, তিনি তথ্যদাতার পরিচয় জানতে চান এবং একপর্যায়ে মামলা করার কথা বলেন। তিনি অবশ্য সরকারি জমি দখলের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন দেওয়ার কথা জানিয়েছেন।
মুকসুদপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বলেন, উপজেলায় ১৬টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা রয়েছে। সীমিত জনবল ও লজিস্টিক সাপোর্টের কারণে সব এলাকায় একইসঙ্গে নজরদারি করা সম্ভব হয় না। সরকারি খাস জমি অবৈধভাবে দখল করা আমলযোগ্য অপরাধ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ব্যবস্থা নিতে পুলিশ প্রশাসনেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তহশিলদার আব্দুর রাজ্জাক মৃধার কার্যক্রম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমি আব্দুর রাজ্জাকের কাজে সন্তুষ্ট নই।
সরকারি খাসজমি ও জলাশয় রাষ্ট্রের সম্পদ। তাই স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত সরেজমিন তদন্ত করে খতিয়ান ও দাগভিত্তিক রেকর্ড যাচাই, জলাশয়ের শ্রেণি-সীমানা নির্ধারণ, স্থাপনা নির্মাণের অনুমোদন এবং অর্থ লেনদেনের অভিযোগ তদন্ত করা হোক। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিয়ে সরকারি সম্পত্তি দখলমুক্ত ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
Leave a Reply