কোটালীপাড়া (গোপালগঞ্জ) প্রতিনিধি: গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলায় এক গৃহবধূকে (৩০) অপহরণ করে আটকে রেখে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ওই গৃহবধূ বাদী হয়ে নাজমুল হাওলাদার (৩১) নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোটালীপাড়া থানায় অপহরণ ও ধর্ষণের মামলা করেছেন।
শনিবার (২৯ আগস্ট) রাতে কোটালীপাড়া থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে উপজেলার ধারাবাশাইল বাজারের পাশে সুমালা চৌধুরীর দোতলা বাড়ির নিচতলার একটি কক্ষ থেকে ওই গৃহবধূকে উদ্ধার করে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রায় তিন বছর আগে নাজমুল হাওলাদারের সঙ্গে ওই গৃহবধূর ফোনে কথা হয়।
বিষয়টি পরিবারের সদস্যরা জানতে পেরে নাজমুলকে ফোনে যোগাযোগ না করার জন্য নিষেধ করেন। পরে ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে নাজমুলের পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানানো হলে তিনি ক্ষিপ্ত হন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়, এরপর ধারাবাশাইল বাজারে থাকা ভুক্তভোগীর বাবা ও চাচার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেন নাজমুল। পরে বিভিন্ন সময় প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য তিনি সুযোগ খুঁজছিলেন বলেও অভিযোগ করেন ওই গৃহবধূ।
মামলার বর্ণনা অনুযায়ী, গত ২২ আগস্ট সকাল ১০টার দিকে ওই গৃহবধূ শ্বশুরবাড়ি থেকে ভ্যানযোগে রওনা হয়ে সকাল সোয়া ১০টার দিকে ধারাবাশাইল বাজারে পৌঁছান। এ সময় কিছু বুঝে ওঠার আগেই নাজমুল হাওলাদার তাকে একটি ইজিবাইকে তুলে নিয়ে যান বলে অভিযোগ করেন তিনি।
পরে তাকে ধারাবাশাইল বাজারের পাশে সুমালা চৌধুরীর দোতলা বাড়ির নিচতলার একটি কক্ষে নিয়ে আটকে রাখা হয় বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে ২২ আগস্ট থেকে ২৯ আগস্ট পর্যন্ত তাকে আটকে রেখে নির্যাতন এবং তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী।
খবর পেয়ে শনিবার রাতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ওই গৃহবধূকে উদ্ধার করে। পরে তাকে কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। এরপর তাকে থানায় নেওয়া হলে তিনি বাদী হয়ে নাজমুল হাওলাদারের বিরুদ্ধে অপহরণ ও ধর্ষণের মামলা দায়ের করেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কোটালীপাড়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) উত্তম কুমার সেন বলেন, “ভুক্তভোগীর মেডিকেল পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।”
অভিযুক্ত নাজমুল হাওলাদার উপজেলার পূর্ণবর্তী গ্রামের জয়নদ্দিন হাওলাদারের ছেলে।
এদিকে, মামলায় ওঠা অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে নাজমুল হাওলাদারের বাড়িতে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটিও বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
Leave a Reply