গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি: শারদীয় দুর্গোৎসবের আনন্দঘন দিনগুলোর সমাপ্তিতে বিজয়া দশমী ও প্রতিমা বিসর্জন উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীসহ সর্বস্তরের মানুষের প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন শৈলেন্দ্রনাথ মজুমদার। বিজয়ার এই পুণ্যলগ্নে তিনি সবার জীবনে সুখ, শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করেছেন।
একই সঙ্গে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও সম্প্রীতির বন্ধন আরও সুদৃঢ় হওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন। দেবী দুর্গার আগমনে যে আনন্দ, উৎসাহ ও উৎসবের আবহ তৈরি হয়েছিল, বিসর্জনের মধ্য দিয়ে সেই আনন্দের পরিসমাপ্তিতে ভক্তদের হৃদয়ে নেমে আসে বিদায়ের বিষাদ।
ঢাকের বাদ্য, পূজামণ্ডপের উৎসবমুখর পরিবেশ আর ভক্তদের উচ্ছ্বাস পেছনে ফেলে দেবীকে বিদায় জানানোর মুহূর্তে সবার মনে জাগে আগামী বছরের প্রতীক্ষা। তবে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলেও দেবীর আদর্শ, শক্তি ও কল্যাণের প্রত্যাশা ভক্তদের হৃদয়ে অমলিন থেকে যায়।
শৈলেন্দ্রনাথ মজুমদার তাঁর শুভেচ্ছাবার্তায় বিজয়ার এই আবেগঘন মুহূর্তে মানুষের মধ্যে মানবিকতা, সহমর্মিতা ও পারস্পরিক সহযোগিতার চর্চা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন, দুর্গোৎসবের অন্তর্নিহিত শিক্ষা মানুষের ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং অন্যায়, হিংসা, বিদ্বেষ ও অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে ন্যায়, সত্য ও শুভবোধ প্রতিষ্ঠার প্রেরণা জোগাবে। দুর্গাপূজা কেবল ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি বাঙালির ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, আবেগ ও সামাজিক সম্প্রীতিরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ। উৎসবের দিনগুলোতে মানুষের মিলন, পারস্পরিক শুভেচ্ছা বিনিময় এবং আনন্দ ভাগাভাগি সমাজে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখে। বিজয়ার বিদায়বেলায় সেই সম্প্রীতির চেতনাকে সারা বছর ধরে লালন করার আহ্বানও উঠে আসে।
শুভেচ্ছাবার্তায় শৈলেন্দ্রনাথ মজুমদার সবার জীবনে মঙ্গল ও সমৃদ্ধি কামনা করে আশাবাদ ব্যক্ত করেন, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন অটুট থাকুক। সমাজ থেকে হিংসা-বিদ্বেষ দূর হয়ে প্রতিষ্ঠিত হোক শান্তি, সহনশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধ। সব ধর্মের মানুষ যেন নিজ নিজ ধর্মীয় উৎসব নির্বিঘ্নে পালন করতে পারেন এবং একে অপরের আনন্দ-অনুভূতির প্রতি সম্মান প্রদর্শনের মধ্য দিয়ে একটি সম্প্রীতিময় সমাজ গড়ে তুলতে পারেন। বিজয়ার বিদায়বেলায় তাই বিষাদের পাশাপাশি জেগে ওঠে নতুন দিনের প্রত্যাশা। প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হয় দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা, কিন্তু মানুষের হৃদয়ে থেকে যায় দেবীর প্রতি ভক্তি, শ্রদ্ধা ও আগামী বছরের অপেক্ষা। সেই চিরচেনা প্রত্যাশার সুরেই ধ্বনিত হয়— ‘আসছে বছর আবার হবে, মা আসবেন আপন মহিমায়।’
Leave a Reply