কামরুল হাসান, কোটালীপাড়া : বাবা আর নেই—এই খবরটি পেয়েছিলেন কারাগারে বসেই। শেষবার বাবার মুখটি দেখতে এবং জানাজায় অংশ নিতে প্যারোলে মুক্তি পেয়ে কাশিমপুর কারাগার থেকে কোটালীপাড়ার আসেন সাবেক পৌর মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শেখ মোহাম্মদ কামাল হোসেন। তবে বাবার সঙ্গে এ ছিল একেবারেই অন্যরকম সাক্ষাৎ—যেখানে পিতা-পুত্রের কোনো কথা হয়নি, হয়নি চোখে চোখ রাখার সুযোগ। কারণ, বাবা তখন নিথর।
শনিবার (৮ আগস্ট) বিকেলে কাশিমপুর কারাগার থেকে আট ঘণ্টার প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয় কামাল হোসেন শেখকে। কড়া নিরাপত্তার মধ্যে পুলিশের প্রিজন ভ্যানে করে রাত ১১টার দিকে তাকে কোটালীপাড়া পৌর ভবন মাঠে নিয়ে আসা হয়। সেখানে তাঁর বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ লুৎফর রহমানের দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
প্রিজন ভ্যান থেকে নেমে বাবার মরদেহ দেখেই কান্নায় ভেঙে পড়েন কামাল হোসেন। জীবিত বাবার সঙ্গে শেষবার কথা বলার সুযোগ আর হয়নি তাঁর। নিথর বাবাকে একবার দেখে জানাজায় অংশ নেন তিনি।
জানাজা শেষে আবারও পুলিশের প্রিজন ভ্যানে করে তাকে কাশিমপুর কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।
শেখ লুৎফর রহমান (৯৫) শুক্রবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে কোটালীপাড়া পৌরসভার নিজ বাসভবনে বার্ধক্যজনিত কারণে মারা যান।
তিনি ছিলেন চার ছেলে ও চার মেয়ের জনক। দীর্ঘ রাজনৈতিক ও সামাজিক জীবনে তিনি কোটালীপাড়া পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং কোটালীপাড়া মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বিভিন্ন সামাজিক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও তিনি যুক্ত ছিলেন।
কোটালীপাড়া পাবলিক ইউনিয়ন ইনস্টিটিউশন (মডেল) ও কোটালীপাড়া শাহানা রশিদ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন তিনি।
বাবার মৃত্যুর পর জানাজায় অংশ নেওয়ার সুযোগ চেয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে কারা কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হয়। পরে কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত সময়ের জন্য তাকে প্যারোলে মুক্তি দেয়।
কোটালীপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রিয়াদ মাহমুদ বলেন, কামাল হোসেন শেখের বিরুদ্ধে ঢাকা ও গোপালগঞ্জে একাধিক মামলা রয়েছে। এসব মামলায় তিনি বর্তমানে কাশিমপুর কারাগারে রয়েছেন। বাবার মৃত্যুর কারণে তাকে আট ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়। তিনি কোটালীপাড়ায় এসে বাবার জানাজায় অংশ নেওয়ার পর তাকে পুনরায় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
এর আগে শনিবার বাদ আসর কোটালীপাড়া পৌর ঈদগাহ মাঠে বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ লুৎফর রহমানের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে পৌর ভবন মাঠে দ্বিতীয় জানাজা শেষে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় পঞ্চপল্লী কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
দুই জানাজায় স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা, বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
বাবার জানাজায় অংশ নিতে কামাল হোসেনের এই কয়েক ঘণ্টার প্যারোলের দৃশ্যটি ছিল আবেগঘন।
# কামরুল হাসান , ০৯.০৮.২০২৬
Leave a Reply